ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পাহাড়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল মাত্র ২০ দিন আগে। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রেকর্ড সময়ে নতুন অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে ফের স্বাভাবিক হল দুধিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা। বুধবার নবনির্মিত এই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত বছর অক্টোবরের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণে সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ ও হড়পা বানে সেই সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। এরপর ভারতীয় সেনা ও রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "এত কম সময়ের মধ্যে এই বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে জনসাধারণের জন্য উৎসর্গ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক সেনা জওয়ানকে স্যালুট জানাই।"
তিনি জানান, এই অস্থায়ী সেতু আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ সচল রাখলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে, এবং সেই সেতুর উদ্বোধনেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান।
পাহাড়ের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বর্ষাকালে দার্জিলিং ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা মাথায় রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাহাড়ে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম-সহ ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ সিভিল ডিফেন্স দল স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে।
এছাড়াও, আগামী মার্চ পর্যন্ত প্রাক্তন সেনাকর্মীদের বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে নিয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে অগ্নিবীরদের নিয়েও বিশেষ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই ইউনিটের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন সাগরদ্বীপে এবং আরও ৫০ জন দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ে মোতায়েন থাকবেন বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।