পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের বক্তব্য, এমন কোনও বৈঠকের সময়সূচিই নির্ধারণ করা হয়নি।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা এগিয়েছিল। সেই কাঠামোয় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ শিথিল করা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণের বিষয় ছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। গত কয়েক দিনে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার হরমুজের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই হামলার পিছনে ইরানের ভূমিকা রয়েছে। এরপর ইরানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। যদিও তেহরান সব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্য করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, "ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।" পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার এই সপ্তাহে দোহায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন।
তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক কাজেম গারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার দোহায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনও বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের বক্তব্যে এত বড় ফারাক তৈরি হওয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যদি দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপ শুরু না হয়, তবে হরমুজ প্রণালী ও গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ফের সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।