পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) কার্যকর করার পথে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্য বিধানসভার দ্বিতীয় অর্থ অধিবেশনের শেষ দিনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হবে। তাঁর কথায়, "উই আর কমিটেড। আমরা সংকল্পপত্রে লিখেছি, ইউসিসি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হবে, হবে, হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের খসড়া বিল অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি আগস্ট মাসেই রাজ্য বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান, এক নিশান"—এই নীতিকেই সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, "এই রাজ্যে একটা আইন চলবে। ধর্মের ভিত্তিতে দুটো আইন চলবে না।"
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ইউসিসি বিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড ইউনিফর্ম সিভিল কোড ২০২৪, অসম ইউনিফর্ম সিভিল কোড ২০২৬ এবং গুজরাট ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল ২০২৬-এর বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্যের মূলনিবাসী আদিবাসী, কুড়মি-সহ অন্যান্য প্রাচীন জনজাতি এই প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে থাকবেন।
ইউসিসি বিল চূড়ান্ত করার আগে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন। কমিটিতে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, একজন আইন বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং সাধারণ প্রশাসন বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব।
এই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কসহ পারিবারিক আইনের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে তারা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় এই ঘোষণা ঘিরে বিরোধী দলের একাংশ আপত্তি তুললেও শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আপনি বিচলিত হবেন না। শুনুন। আপনার আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। আগে শুনুন, তারপর মতামত দিন।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকর করার এই ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে চলেছে। আগামী আগস্টে বিধানসভায় বিল পেশ হলে বিষয়টি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই দেখা যেতে পারে।