নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বড় পদক্ষেপ নিল তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতককে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে ১ গ্রামের একটি সোনার আংটি। রাজ্য সরকারের নতুন এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম’।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সোনার আংটি পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার বার্ষিক ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঐতিহ্যের সঙ্গে জনকল্যাণের মেলবন্ধন
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের অনুপ্রেরণা এসেছে তামিল সমাজের ঐতিহ্যবাহী ‘থাই মামান সির’ প্রথা থেকে। প্রচলিত রীতিতে পরিবারের নতুন সদস্যের জন্ম হলে মায়ের ভাই বা মামা নবজাতককে উপহার দিয়ে আশীর্বাদ করেন।
সেই সংস্কৃতিকেই প্রতীকীভাবে অনুসরণ করে এবার রাজ্য সরকার নিজেই প্রতিটি নবজাতকের ‘মামা’-র ভূমিকা পালন করবে। সরকারের বক্তব্য, এই সোনার আংটি শুধু একটি উপহার নয়; এটি নবজাতক ও তার পরিবারের প্রতি সরকারের ভালোবাসা, স্নেহ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক।
২২ জুন থেকেই কার্যকর
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ জুন, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জন্মদিন থেকেই প্রকল্পটি কার্যকর হয়েছে। ওই দিন বা তার পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতক এই প্রকল্পের আওতায় ১ গ্রামের সোনার আংটি পাওয়ার যোগ্য হবে।
যদিও প্রকল্পের সুবিধা ইতিমধ্যেই কার্যকর, তবে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তামিলনাড়ুর প্রখ্যাত নেতা পেরারিজ্নার আন্না-র জন্মবার্ষিকীতে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন
‘থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম’ ছিল মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK)-এর অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘ভেট্টি তামিঝাগাম ভিশন ডকুমেন্ট’-এ এই প্রকল্পের উল্লেখ ছিল বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে।
ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের জন্মদিন উপলক্ষে দলীয় উদ্যোগে নবজাতকদের উপহার দেওয়ার নজির থাকলেও, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে আইনি কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়নের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত বিরল।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হারও বৃদ্ধি পাবে।