জার্মানিকে চমকে দিতে মুখিয়ে প্যারাগুয়ে, ‘এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ’
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে প্যারাগুয়ে। শেষ ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলটির কোচ গুস্তাভো আলফারো জানিয়েছেন, এই ম্যাচই তাঁর খেলোয়াড়দের জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য উজাড় করে দিতে পারলে জার্মানিকেও হারানো সম্ভব বলে বিশ্বাস তাঁর।
সোমবার ভারতীয় সময় ভোর ৩টায় বোস্টনে মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো না হলেও দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নেয় শেষ ৩২-এ। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে প্যারাগুয়ে।
অন্যদিকে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরোপুরি ছন্দে নেই জার্মানি। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হারের পাশাপাশি আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করতে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে তাদের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আলফারো বলেন, “জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। কিন্তু আমরা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে লড়ব। এমন চ্যালেঞ্জের জন্যই তো বিশ্বকাপে এসেছি।”
২০২৪ সালের হতাশাজনক কোপা আমেরিকার পর প্যারাগুয়ের দায়িত্ব নেন আর্জেন্টাইন কোচ আলফারো। সেই আসরে তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিয়েছিল দলটি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মানসিকতা গড়ে তুলেছে তাঁর দল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পরও শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্যারাগুয়েকে। এরপর ম্যাচের মাত্র একদিন আগে বোস্টনে পৌঁছায় দলটি। এত অল্প প্রস্তুতির সময় নিয়েও হতাশ নন আলফারো।
তিনি বলেন, “আমরা মাত্র গত রাতেই এখানে এসেছি। জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে প্রস্তুতির জন্য এটি আদর্শ নয়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই দল যেভাবে লড়াই করে, তাতে আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।”
খেলোয়াড়দের উদ্দেশে নিজের বার্তাও তুলে ধরেন তিনি। আলফারো বলেন, “আমি ওদের বলেছি, এটি আমাদের প্রথম বিশ্বকাপ। এখানে পৌঁছানোই বিশাল অর্জন। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ সবার ভাগ্যে আসে না। এই মঞ্চের অভিজ্ঞতা একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।”
এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের বিজয়ীর।