বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার নিজের মহত্ত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক রাতেই দেখা গেল এক অন্য মেসিকে—গোলের উল্লাসের মাঝেই জার্সি দিয়ে চোখের জল মুছছেন তিনি।
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করার আবেগেই হয়তো ভেঙে পড়েছেন মেসি। কিন্তু ম্যাচ শেষে তার বক্তব্যে সামনে আসে এক হৃদয়স্পর্শী বাস্তবতা।
মেসি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার চোখের জল ফুটবলের জন্য নয়।
“আমি কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। দলের সবাই আমাকে শক্তি দিয়েছে, পাশে থেকেছে,” — ম্যাচ শেষে বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বাবার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ
আর্জেন্টিনার একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মেসির বাবা জর্জ মেসি দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
পরিবারের তরফে বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনলেও বাবার অসুস্থতা মেসির মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও সেই চাপ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি।
ক্যামেরার সামনে আবেগঘন বার্তা
হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে দেখা যায় মেসিকে। সেই মুহূর্ত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে।
অনেকের ধারণা, সেই বার্তাটি ছিল অসুস্থ বাবার উদ্দেশেই। বিশ্বকাপের মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপই যেন ফুটে উঠেছিল মেসির চোখেমুখে।
ইতিহাসের রাতে মানবিক মেসি
৩৮ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। ফুটবলবিশ্বের অনেকেই মনে করছেন, এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ অভিযান।
একদিকে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নিজের নাম লেখা—সব মিলিয়ে রাতটি ছিল ইতিহাস গড়ার। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের দুশ্চিন্তা সেই আনন্দকে সম্পূর্ণ হতে দেয়নি।
কানসাস সিটির সেই রাত তাই শুধু একটি হ্যাটট্রিকের গল্প নয়। সেটি একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের মানবিক দিকও তুলে ধরেছে। মাঠে তিনি বিশ্বজয়ী তারকা, কিন্তু মাঠের বাইরে তিনি একজন ছেলে, যিনি দূরে বসে বাবার সুস্থতার জন্য উদ্বিগ্ন।
এ কারণেই হয়তো বিশ্বকাপের সেই চোখের জল ফুটবলের পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি দিন মনে রাখবে বিশ্ব।