রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল সমান্তরাল তৃণমূলের সাংগঠনিক বিস্তার। রাজ্য কমিটি ঘোষণার মাত্র একদিনের মধ্যেই জেলা স্তরের সংগঠন গড়ে তুলতে একাধিক জেলার নেতৃত্ব ঘোষণা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নতুন জেলা কমিটিতে যেমন উঠে এসেছে একঝাঁক নতুন মুখ, তেমনই ফিরে এসেছেন একাধিক পুরনো রাজনৈতিক হেভিওয়েট।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বীরভূম জেলা। সেখানে আবারও সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। একসময় জেলার সংগঠনের মুখ হিসেবে পরিচিত অনুব্রতকে ফের সামনে আনা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
জেলা স্তরে নতুন দায়িত্ব বণ্টন
ঋতব্রত শিবিরের ঘোষণায় হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ-সহ একাধিক জেলার নতুন সভাপতি ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মুখপাত্রদেরও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দলের চিফ মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকে নির্মল ঘোষের উপস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য
শনিবারের বৈঠকের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না-থাকা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের উপস্থিতি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি বিতর্কের জেরে তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে আচমকাই ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নির্মল ঘোষ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমাদের হৃদয়-প্রাণ আছে। বাকিটা কী হবে..."—এরপর আর কোনও মন্তব্য না করেই তিনি বৈঠকস্থলে প্রবেশ করেন।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জেলা কমিটি ঘোষণা এবং বিতর্কিত ও পরিচিত রাজনৈতিক মুখদের এক মঞ্চে আনা—দুই মিলিয়ে সমান্তরাল তৃণমূল সংগঠনকে দ্রুত বিস্তার করার কৌশলই স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলকে সামনে আনা এবং নির্মল ঘোষের উপস্থিতি আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আগামী দিনে জেলা স্তরে সংগঠন কতটা শক্তিশালী হয় এবং মূল তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।