রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও একধাপ এগোল। নবান্নের বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি-র খসড়া বিল তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠন করা হল।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই কমিটির মূল দায়িত্ব হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আইনি কাঠামো, সাংবিধানিক দিক এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা খতিয়ে দেখে সরকারের কাছে বিস্তারিত সুপারিশ পেশ করা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রস্তাবিত বিলের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হবে।
অগস্ট অধিবেশনেই বিল পেশের জোর জল্পনা
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী অগস্ট মাসে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনেই ইউসিসি-র খসড়া বিল পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের বৈঠকের পরই কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে উদ্যোগ
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতির ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসরণ করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হল ধর্ম, সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত আইনের ভিন্নতা সত্ত্বেও নাগরিকদের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি আইনি কাঠামো তৈরি করা।
প্রস্তাবিত আইনে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, দত্তক গ্রহণ এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সমতা আনার লক্ষ্যে সুপারিশ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
কমিটিতে কারা রয়েছেন
বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে রয়েছেন—
প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়
অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং
আইএএস দুষ্মন্ত নারাইয়ালা
স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ (মেম্বার-কনভেনর)
শিক্ষাবিদ ড. রত্না ভট্টাচার্য
প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র
আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক
আইনজীবী নির্মাল্য ভট্টাচার্য
সরকারের আশা, এই বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারিবারিক আইন সংক্রান্ত জটিলতাও অনেকাংশে কমাবে।