বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক উস্কে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত গণপিটুনি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য এবং ঘটনার প্রকৃতি বিচার করে তাঁর ধারণা, এই ঘটনায় রাজনৈতিক উস্কানি ও সংগঠিত ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির উস্কানিতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সন্দেহ। পাশাপাশি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী শক্তির ভূমিকা নিয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
'হাত-পা বেঁধে হত্যা, এটা গণপিটুনি নয়'
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নাম-পরিচয় দেখে একজন নির্দোষ যুবকের হাত-পা বেঁধে যেভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে, তা সাধারণ গণপিটুনি নয়, এটি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন।” দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
৩৮ জন গ্রেফতার, তদন্তে জোর পুলিশ
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন এলাকার ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি এবং মোবাইল ফুটেজ খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দিঘা, বকখালি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের জন্য একগুচ্ছ সহায়তার ঘোষণা
নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার একাধিক আর্থিক ও সামাজিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।
নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ
দাদা বাপি মণ্ডলকে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সরকারি উদ্যোগে সংস্কার
বৃদ্ধ বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা
মায়ের জন্য 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু পরিবার যাতে ভবিষ্যতে নিরাপদে বাঁচতে পারে, সেই দায়িত্ব সরকার নেবে।
ঘটনার পটভূমি
গত ৪ জুলাই বারুইপুরে এক নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর পরদিন তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং পরে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের অভিযানে নিহত হয়।
এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় ভুল সন্দেহের বশে স্থানীয় অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল জনতার হাতে আক্রান্ত হন এবং গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ওই ঘটনায় সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।