হুগলি জেলার একাধিক পুরসভায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরদের ধারাবাহিক পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে একাধিক পুরসভার প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিভিন্ন পুরসভায় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। যদিও এই পদত্যাগের পিছনে নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতির জেরেই জনপ্রতিনিধিদের একাংশ পদত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ইস্তফার ফলে ভোট ছাড়াই স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসছে।
অন্যদিকে, শাসকদলের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। প্রশাসনিক কাজের গতি বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরের সম্ভাব্য পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা—দুই পক্ষের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইতিমধ্যেই জেলার একাধিক পুরসভায় আর্থিক সমস্যা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের গতি এবং কর্মীদের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়েও অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ধারাবাহিক পদত্যাগ স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
এখন দেখার, আগামী দিনে এই পদত্যাগের ধারা অব্যাহত থাকে কি না এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুরসভা নির্বাচন নিয়ে কবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।