কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় সদ্যোজাতকে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগে বাবা ও মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলার পাণ্ডুয়া থানার একটি মামলায় সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক রায়দান করা হয়েছে। যাবজ্জীবন জেলের পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত ওই দম্পতিকে ১০,০০০ টাকা জরিমানারও নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য বিচারক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বরের। পাণ্ডুয়া থানার অন্তর্গত বৈঁচি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মারি খালে আচমকাই একটি সদ্যোজাত শিশুর মৃতদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। এরপরই পাণ্ডুয়া থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার গ্রহণ করেন সাব-ইন্সপেক্টর বুদ্ধদেব সরকার।
তদন্তে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। জানা যায়, বৈঁচি গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা টুডু বেশ কয়েকমাস ধরে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু সন্তান প্রসবের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও ওই দম্পতির বাড়িতে কোনও সদ্যোজাত শিশুর দেখা মেলেনি। এতেই পুলিশের সন্দেহ ঘনীভূত হয় পূর্ণিমা ও তাঁর স্বামী নারায়ণ টুডুর ওপর।
এরপরই ওই দম্পতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের লাগাতার জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজেদের দোষ কবুল করে নেয় তারা। উঠে আসে এক মর্মান্তিক সত্য। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা জানায়, কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় তারা মেনে নিতে পারেনি। সেই আক্রোশেই পৃথিবীর আলো দেখার পরই নিজেদের একরত্তি মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে তারা। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে রাতের অন্ধকারে মৃতদেহটি খালের জলে ফেলে দিয়ে আসে।
অপরাধের কথা স্বীকার করার পর সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারী আধিকারিক। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। শুধুমাত্র মেয়ে হওয়ার অপরাধে সন্তানকে খুনের মতো জঘন্য অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি হিসেবেই দম্পতিকে যাবজ্জীবন শ্রীঘরবাসের সাজা শোনানো হয়েছে। পুলিশের তৎপরতা এবং আদালতের এই কঠোর রায়কে সাধুবাদ জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহল।