২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ফ্রান্স। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপেও অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দল। শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে আবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে ফরাসিরা। তবে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার গ্যারি নেভিলের মতে, এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে হারানোর সামর্থ্য আছে মাত্র একটি দলের—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল এবং ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোল ফ্রান্সকে সহজ জয় এনে দেয়। টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ফরাসিরা এবারও একই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলেছে। ফলে অনেক বিশ্লেষকের চোখে তারাই বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার।
তবে আইটিভি স্পোর্টসে আলোচনার সময় গ্যারি নেভিল বলেন, "এই মুহূর্তে কেবল একটি দলকেই আমি ফ্রান্সকে থামানোর মতো মানসিকতাসম্পন্ন দেখছি, আর সেটা হলো আর্জেন্টিনা। বড় ম্যাচে তাদের আগ্রাসন, লড়াই করার মানসিকতা এবং অভিজ্ঞতাই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।"
শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা অথবা মরক্কোর মুখোমুখি হবে তারা। ড্রয়ের হিসেবে ফাইনালের আগে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই ফরাসিদের। ফলে ফাইনালে ওঠার রাস্তা তুলনামূলকভাবে সহজ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শেষ ৩২-এ খেলবে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে। লিওনেল মেসিদের পথ তুলনামূলক কঠিন হলেও তারা যদি নকআউট পর্বের সব বাধা পেরোতে পারে এবং ফ্রান্সও নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তাহলে ২০২২ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও দেখা যেতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স মহারণ।
নেভিলের মতে, টুর্নামেন্ট যত এগোবে ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো দল নিজেদের আরও উন্নত করতে পারে। তবে বর্তমান ফর্ম বিচার করলে আর্জেন্টিনাই একমাত্র দল, যারা ফ্রান্সকে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।