ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে
কলকাতা

ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে সরব হওয়া-সহ একাধিক কারণের কথা দাবি রাধারমণ দাসের। অন্যদিকে, ইসকনের দাবি—সংগঠনের নিয়ম না মানা ও এক্তিয়ারের বাইরে হস্তক্ষেপের জেরেই এই পদক্ষেপ।

শেয়ার
X WhatsApp

কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাধারমণ দাসকে। রবিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি নিজেই এই তথ্য জানান। একইসঙ্গে ইসকনের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না।
রাধারমণ দাসের দাবি, কর্তৃপক্ষ তাঁকে যে কারণগুলি জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে হিন্দু ও ইসকন ভক্তদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া। পাশাপাশি, বাংলাদেশে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়াকেও তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বিজেপি নেত্রী মেনকা গান্ধীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো, কৌতুকশিল্পী সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের, সনাতন ধর্মের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা এবং ১৯৭৬ সালের নিউ ইয়র্ক রথযাত্রার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করাও সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাধারমণ।
অন্যদিকে, ইসকনের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হলেও তিনি তা মানেননি। পাশাপাশি, সংগঠনের নীতির পরিপন্থীভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, তিনি ইসকন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করছেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের নির্দেশ মেনে চলবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন থেকে ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করবেন না বা জনসমক্ষে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাধারমণ দাসের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গিয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
কলকাতা

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে সরব হওয়া-সহ একাধিক কারণের কথা দাবি রাধারমণ দাসের। অন্যদিকে, ইসকনের দাবি—সংগঠনের নিয়ম না মানা ও এক্তিয়ারের বাইরে হস্তক্ষেপের জেরেই এই পদক্ষেপ।

মিড ডে মিলে ‘সবুজ শক্তি’র পথে রাজ্য, সৌরবিদ্যুৎ চালিত রান্নাঘরের পরিকল্পনায় শুরু তথ্য সংগ্রহ
কলকাতা

মিড ডে মিলে ‘সবুজ শক্তি’র পথে রাজ্য, সৌরবিদ্যুৎ চালিত রান্নাঘরের পরিকল্পনায় শুরু তথ্য সংগ্রহ

পশ্চিমবঙ্গেও কি চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)? শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গেও কি চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)? শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মজয়ন্তীতে বাবুঘাটে শ্রদ্ধার্ঘ্য, সাহিত্যিকের আদর্শ স্মরণে রাজ্য মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী
কলকাতা

বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মজয়ন্তীতে বাবুঘাটে শ্রদ্ধার্ঘ্য, সাহিত্যিকের আদর্শ স্মরণে রাজ্য মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী