ইউসিসি-র বিরোধিতায় সরব তৃণমূল, সৌগত রায়ের নিশানায় বিজেপির ‘সংখ্যালঘু-বিরোধী মনোভাব’
রাজ্য

ইউসিসি-র বিরোধিতায় সরব তৃণমূল, সৌগত রায়ের নিশানায় বিজেপির ‘সংখ্যালঘু-বিরোধী মনোভাব’

বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পেশের আগেই অবস্থান স্পষ্ট করল তৃণমূল। সৌগত রায়ের দাবি, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করেই এই আইন আনতে চাইছে বিজেপি; বিলের খসড়া দেখেই চূড়ান্ত মত জানাবেন কুণাল ঘোষ।

শেয়ার
X WhatsApp

আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) বিল পেশ হওয়ার কথা। তার আগেই এই ইস্যুতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রবীণ নেতা সৌগত রায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইউসিসি-র বিরোধিতা করবে তৃণমূল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই আইন আনার পিছনে বিজেপির মূল উদ্দেশ্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া।
সৌগত রায় বলেন, "আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, এই ধরনের আইনের কোনও প্রয়োজন নেই। সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে এটি নীতিনির্দেশমূলক বিষয়, বাধ্যতামূলক নয়। তা হলে এই মুহূর্তে এই আইন আনার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?" তাঁর অভিযোগ, ইউসিসি-র মাধ্যমে বিজেপি সংখ্যালঘুদের প্রতি নিজেদের বিরূপ মনোভাবকেই আরও জোরালো করতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ড, অসম ও গুজরাত-সহ একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যে ইউসিসি নিয়ে পদক্ষেপের পর পশ্চিমবঙ্গেও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। নির্বাচনী ইস্তেহারে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারপক্ষের দাবি।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতিকে সমর্থন করলেও ইউসিসি-কে রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। দলের দাবি, ভারতের বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদকে সম্মান জানিয়ে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংস্কারের আগে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও বলেন, "ইউসিসি নিয়ে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে বিলের ভাষা ও খসড়া এখনও হাতে আসেনি। সেটি দেখার পরই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব।"
দলীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মতামত ও সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব না দিয়ে এমন সংবেদনশীল আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়। যদিও নবান্ন সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত বিলে পাহাড় ও জঙ্গলমহলের কিছু বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মতো বহুধর্মী ও বহুসাংস্কৃতিক রাজ্যে ইউসিসি নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। একদিকে সরকার এই বিলকে আইনি সংস্কারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীরা একে সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রচেষ্টা বলে দাবি করছে। ফলে সোমবারের বিধানসভা অধিবেশন রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
নবান্নে প্রথম দফতরভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠক ২ জুলাই, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়ন প্রকল্পে জোর
রাজ্য

নবান্নে প্রথম দফতরভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠক ২ জুলাই, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়ন প্রকল্পে জোর

এনএইচ-১১৬-এর ধারে অবৈধ দখলে বুলডোজার, অঙ্কুরহাটিতে প্রশাসনের বড় উচ্ছেদ অভিযান
রাজ্য

এনএইচ-১১৬-এর ধারে অবৈধ দখলে বুলডোজার, অঙ্কুরহাটিতে প্রশাসনের বড় উচ্ছেদ অভিযান

দাঙ্গা-ভাঙচুরে এবার ক্ষতিপূরণ আদায়ে কড়া আইন, বিধানসভায় আসছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল
রাজ্য

দাঙ্গা-ভাঙচুরে এবার ক্ষতিপূরণ আদায়ে কড়া আইন, বিধানসভায় আসছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল

পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তা, জারি সরকারি বিজ্ঞপ্তি
রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তা, জারি সরকারি বিজ্ঞপ্তি