বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতেও সচেতনতার নজির, সচ্ছল মহিলাদের জন্য আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’
রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালুর এক মাসের মধ্যেই উঠে এল এক ব্যতিক্রমী চিত্র। আর্থিকভাবে সচ্ছল বহু মহিলা স্বেচ্ছায় বাসের টিকিট কেটে যাতায়াত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি ভর্তুকির সুবিধা তাঁদের নয়, বরং সেই মহিলাদের পাওয়া উচিত, যাঁদের সত্যিই এই সহায়তা প্রয়োজন।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত মহিলা স্বেচ্ছায় বাসভাড়া দিতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকার কোনও বাধা দেবে না। বরং এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে প্রশাসন।
১ জুন থেকে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা
গত ১ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মহিলা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলাদের কাছে এই পরিষেবা বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। যাতায়াতের খরচ বাঁচিয়ে তাঁরা সেই অর্থ সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে পারছেন।
সচ্ছল মহিলাদের স্বেচ্ছা উদ্যোগকে স্বাগত
প্রকল্প চালুর পর সমাজমাধ্যমে একাংশ চাকরিজীবী ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মহিলা জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি ভর্তুকির সুবিধা নিতে চান না। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাসের টিকিট কেটেই যাতায়াত করতে আগ্রহী তাঁরা।
রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, যাঁরা নিজের ইচ্ছায় টিকিট কাটতে চান, তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হবে। এতে পরিবহণ নিগমগুলির আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি ভর্তুকির চাপও কমবে।
আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’
বিনামূল্যে যাতায়াতের গোটা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে ‘পিঙ্ক কার্ড’ অথবা জিরো ভ্যালু পিঙ্ক টিকিট চালুর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
এই কার্ডের মাধ্যমে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে কারা বিনামূল্যে যাতায়াতের যোগ্য। পাশাপাশি প্রতিদিন কতজন মহিলা এই পরিষেবার সুবিধা নিচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যানও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, এই প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
পরিবহণ নিগমের আয় বাড়ানোর লক্ষ্য
বর্তমানে ডব্লিউবিটিসি, এসবিএসটিসি এবং এনবিএসটিসি-সহ রাজ্যের সরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলিকে সচল রাখতে সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। দীর্ঘদিন বাসভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড়সড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে সক্ষম মহিলারা স্বেচ্ছায় টিকিট কেটে যাতায়াত করলে পরিবহণ নিগমগুলির আয় কিছুটা হলেও বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।