দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে থাকা মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নের অর্থ দপ্তরের জারি করা বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকার রাজ্য সরকারি ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিআরের ৫০ শতাংশ অর্থ আপাতত তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
অর্থ দপ্তরের দাবি, প্রবীণ পেনশনভোগীদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভা এলাকার যে সমস্ত রাজ্য সরকারি ও ফ্যামিলি পেনশনভোগী বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশন পান, তাঁরাই আপাতত এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রোপা ২০০৯-এর আওতায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিআর দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল। ব্যাঙ্কগুলির কাছে সেই সময়ের সম্পূর্ণ ডিজিটাল তথ্য না থাকায় বকেয়া নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
কীভাবে নির্ধারিত হবে বকেয়ার পরিমাণ?
অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (AG), পশ্চিমবঙ্গ এবং অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI)-এর তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব করে আপাতত বকেয়ার ৫০ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ তথ্য যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা না করে যাতে পেনশনভোগীরা দ্রুত অর্থ পান, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চালু হল নতুন পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল
গোটা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে WBIFMS-এর অধীনে ‘ব্যাঙ্ক পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল’ চালু করেছে অর্থ দপ্তর।
সমস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে এই পোর্টালে গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হলেই নির্ধারিত অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
অর্থ দপ্তর আরও জানিয়েছে, বাকি ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিআরও পরবর্তী পর্যায়ে মিটিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের পেনশন সংক্রান্ত সমস্ত পুরনো নথি দ্রুত যাচাই করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ প্রদানের নিয়ম আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ
যদিও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও একাধিক কর্মী সংগঠন কিছু প্রশ্ন তুলেছে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভা এলাকার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশনপ্রাপ্তদের সুবিধার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের অন্য এলাকার পেনশনভোগীরা এবং গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা কেন এই সুবিধার বাইরে থাকবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস শীল অভিযোগ করেন, কলকাতার বাইরে ট্রেজ়ারির মাধ্যমে পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ২০১৬-২০১৯ সালের পুরো বকেয়া দেওয়া হলেও, অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মাত্র ৫০ শতাংশ অর্থ পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই বৈষম্য দূর করে সকলের জন্য সমানভাবে বকেয়া পরিশোধ করা হোক। এই দাবিতে খুব শীঘ্রই অর্থসচিবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।