পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অসামাজিক কার্যকলাপ বা আইনভঙ্গের অভিযোগ উঠলেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য আবেদন জানান, কোনও নিরপরাধ মানুষের উপর হামলার ঘটনা সামনে এলে সংবাদমাধ্যম যেন দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানায়। তাঁর মতে, দ্রুত তথ্য পৌঁছালে প্রশাসনও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।
শীতলখুচির ঘটনা নিয়ে কী বললেন?
শীতলখুচিতে সিপিআই(এম)-এর এক নেত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি সভাপতি বলেন, অতীতে সিপিআই(এম)-এর আমলে বিজেপির বহু কর্মী রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন। তবে সেই ইতিহাস থাকলেও কোনও রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর উপর হামলা কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবি
তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং চলমান তদন্ত প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সাধারণ মানুষের মতো বিজেপিও চায় তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হোক এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক।
তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ঘিরে নানা বিতর্ক হয়েছে। এবার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি।
সুখেন্দু শেখর রায়ের বৈঠক নিয়ে মন্তব্য
তৃণমূল নেতা সুখেন্দু শেখর রায়-এর সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুখেন্দু শেখর রায় একজন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ রাজনীতিক। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সকলেই অবগত এবং সাম্প্রতিক বৈঠককে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছেন।
অভিষেককে কটাক্ষ, ঋতব্রত ইস্যুতেও আক্রমণ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আগে ‘ব্লাড স্যাম্পেল’-এর আলোচনা ছিল, এখন ‘ভয়েস স্যাম্পেল’ নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়গুলি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে যাঁদের তৃণমূলে আনা হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এখন দলের নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্বও তৃণমূল নেতৃত্বের বলেই কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।