বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই ফের আন্দোলনের পথে হাঁটলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে সবুজ মোমবাতি নিয়ে ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগানকে সামনে রেখে তাঁর রাস্তায় নামা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলনই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিলেন। সেই অতীতের স্মৃতি যেন আবারও ফিরে এল বারুইপুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে।
এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনও এখন তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে প্রতীক ও সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। দিল্লিতে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও সাগরিকা ঘোষ কমিশনের সামনে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বারুইপুরে যাওয়ার পরিকল্পনার পর কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে বিপুল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কার্যত তাঁকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে।
পরদিনই ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ দাবিতে রাস্তায় নেমে মোমবাতি মিছিল করেন তৃণমূল নেত্রী। সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি এবং হাতে সবুজ মোমবাতি—এই পরিচিত রাজনৈতিক চেহারায় তাঁকে ফের আন্দোলনের ময়দানে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের কর্মী-সমর্থক এবং বহু সাধারণ মানুষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনের মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই কর্মসূচি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।