দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের বহুল আলোচিত জয়নগর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া পুলিশ আধিকারিকদেরই এবার বারুইপুরের এই মামলার তদন্তে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
গত বছরের ৫ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই মুস্তাকিন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। মাত্র ৬১ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পূর্ণ করে চার্জশিট পেশ করা হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বারুইপুর আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হাইকোর্টে আপিল করায় মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। ফলে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়া এখনও বাকি রয়েছে।
এবার বারুইপুরের সূর্যপুরের সাম্প্রতিক নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একই ধরনের দ্রুত তদন্তের লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ তদন্তকারী অফিসারদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, ওই তদন্তকারী দলের মধ্যে তৎকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালী, এসডিপিও অতীশ বিশ্বাস-সহ আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিককে তদন্তে যুক্ত করা হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বারুইপুরের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাবে সরকার। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, জয়নগর মামলায় দ্রুত তদন্ত ও নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় আদায়ের অভিজ্ঞতা বারুইপুর মামলার তদন্তেও কাজে লাগাতে চাইছে প্রশাসন। তবে তদন্তের চূড়ান্ত রূপরেখা এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা এখনও অপেক্ষাধীন।