রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে ফের বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস আধিকারিকদের বদলির পর এবার এক ধাক্কায় ১০৮ জন থানার আইসি ও ওসি-কে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি নির্দেশিকায় এই ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলের কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বদলির আওতায় উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত একাধিক জেলার গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিআইডি, ডিআইবি, ডিইবি, ইউনিফর্মড ব্রাঞ্চ, আর্মড ব্রাঞ্চ এবং জিআরপি-তেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ কোনও থানার ওসি বা আইসি এই তালিকায় নেই।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন মুখ
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, সোনারপুর, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, বজবজ ও নোদাখালি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন আইসি নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, কাঁথি ও তমলুক, পশ্চিমাঞ্চলের বিনপুর, বেলপাহাড়ি-সহ বিভিন্ন থানাতেও নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক পাঠানো হয়েছে।
পারস্পরিক বদলির নজিরও
এই রদবদলে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আধিকারিকদের পারস্পরিক বদলি করা হয়েছে। যেমন—
ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার ওসি রামনারায়ণ পাল-কে নয়াগ্রাম থানার আইসি করা হয়েছে।
নয়াগ্রামের বর্তমান আইসি সুজয় লায়েক যাচ্ছেন ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায়।
শিয়ালদহ জিআরপির আইসি অনিরুদ্ধ বাগ-কে পাঠানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ থানায়।
মুর্শিদাবাদ থানার আইসি রাজা সরকার পাচ্ছেন শিয়ালদহ জিআরপির দায়িত্ব।
নাগেরবাজার থানা ও মুর্শিদাবাদ ডিআইবির মধ্যেও দায়িত্ব অদলবদল করা হয়েছে।
রুটিন বদলি নাকি প্রশাসনিক পুনর্গঠন?
নবান্নের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে 'রুটিন প্রশাসনিক বদলি' বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা আরও কার্যকর করা এবং প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবেই এই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ থানা ও গোয়েন্দা শাখায় একযোগে এত সংখ্যক বদলি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে।
দ্রুত যোগদানের নির্দেশ
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই রদবদল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশি প্রশাসনের কার্যকারিতায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।