রাজ্যে জমি সংক্রান্ত সরকারি পরিষেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এখন থেকে অনলাইনে জমির খতিয়ান (Record of Rights) এবং দাগের তথ্য (Plot Information)-এর ডিজিটালি স্বাক্ষরিত সফট কপি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। এর জন্য আর কোনও আবেদন ফি (Enquiry Charges) বা অথেন্টিকেশন ফি দিতে হবে না।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ডিজিটাল পরিষেবায় জোর সরকারের
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে জানান, নাগরিক পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই জমির রেকর্ড সংক্রান্ত অনলাইন পরিষেবার উপর আর্থিক বোঝা তুলে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এতদিন অনলাইনে খতিয়ান বা প্লট ইনফরমেশন সংগ্রহ করতে নির্দিষ্ট আবেদন ফি এবং প্রমাণীকরণ ফি দিতে হত। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সেই খরচ সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কৃষক ও জমির মালিকদের বড় সুবিধা
সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ জমির মালিক এবং কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। বাড়িতে বসেই মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিজিটালি স্বাক্ষরিত জমির নথি ডাউনলোড করা যাবে। ফলে ব্লক অফিস বা ভূমি দপ্তরে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।
প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সময় ও অর্থ সাশ্রয়ই করবে না, জমি সংক্রান্ত পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়াবে।
আইনি সংশোধনের পর কার্যকর নতুন ব্যবস্থা
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন, ১৯৫৫ এবং বেঙ্গল রেকর্ডস ম্যানুয়াল, ১৯৪৩-এর প্রাসঙ্গিক বিধিতে সংশোধন আনার পর অর্থ দপ্তরের অনুমোদন মিলেছে। সেই সংশোধনের ভিত্তিতেই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন আবেদনকারী চাইলে একাধিক খতিয়ান বা দাগের তথ্যও পৃথকভাবে অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রেও কোনও ধরনের আবেদন ফি নেওয়া হবে না।
হার্ড কপির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র ডিজিটাল সফট কপির জন্য প্রযোজ্য। কেউ যদি সরকারি দপ্তর থেকে সার্টিফায়েড হার্ড কপি বা অন্য কোনও কাগজপত্র সংগ্রহ করতে চান, তাহলে আগের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিতে হবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে, সরকারি দপ্তরে ভিড়ও অনেকটাই হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে রাজ্যের ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।