তারাতলার মর্মান্তিক বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজে অসামান্য সাহসিকতা ও দ্রুত তৎপরতার স্বীকৃতি দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। শনিবার দুপুরে আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সংবর্ধনা জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুপুর ১২টা নাগাদ শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি দমকল বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স, এনডিআরএফ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার প্রায় এক হাজার সদস্যকে সম্মানিত করা হবে। বিপর্যয়ের সময় তাঁদের দ্রুত ও দক্ষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকাও পেল সরকারি স্বীকৃতি
শুধু সরকারি উদ্ধারকারী বাহিনী নয়, বিপর্যয়ের পর প্রথম মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে যাঁরা আহতদের উদ্ধার করেছিলেন, সেই স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হবে। রাজ্য সরকারের মতে, দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের এই মানবিক উদ্যোগ উদ্ধারকাজকে অনেকটাই দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
আগেও মিলেছে একই স্বীকৃতি
বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষের অবদানকে সম্মান জানানোর নজির এর আগেও রয়েছে। ২০১১ সালের আমরি হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের সরকারিভাবে সম্মান জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে উল্টোডাঙ্গা রেলবস্তির অগ্নিকাণ্ড এবং পোস্তা উড়ালপুল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের পুরস্কৃত করেছিল রাজ্য সরকার।
সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার তারাতলা বিপর্যয়ের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সম্মান জানাতে চলেছে প্রশাসন।
মানবিকতার বার্তা
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে মানবিকতার স্বীকৃতি বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বিপর্যয়ের সময় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা সাধারণ মানুষের অবদানকে সামনে আনাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গিয়েছে।