তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবার প্রকাশ্যে দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। শুক্রবার কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার একটি দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। বৈঠক শেষে ভবনের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে তাঁরা বেরিয়ে যান। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং আখরুজ্জামানের মতো একাধিক নেতা ও বিধায়ক। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই কার্যালয়ের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ।
বিধায়ক আখরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই কার্যালয় তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। তাই সংগঠনের স্বার্থে এর দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল।
খবর পেয়েই পৌঁছন কুণাল ঘোষ
যে দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এই ঘটনাপ্রবাহ, সেটি স্থানীয় বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত। বিষয়টি জানার পরই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। যদিও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, সেই আশঙ্কা মাথায় রেখে কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’। পাশাপাশি তিনি জানান, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং দায়িত্বশীলভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে। শেষ পর্যন্ত মানুষের বিচারেই সব নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘আসল’ তৃণমূল নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের স্বীকৃতি নিয়ে যে আইনি ও সাংগঠনিক লড়াই চলছে, তারই নতুন অধ্যায় এই দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সংঘাত। প্রতীক, তহবিল এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নের পর এবার দলীয় অফিস নিয়েও দুই শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠল।
আগামী দিনে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।