পাকিস্তানে ফের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায় একটি যাত্রীবাহী বাস। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৮ জন, যাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী বাসটি দ্রুত গতিতে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে চলছিল। সেই সময় একটি বিপজ্জনক বাঁকে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি কয়েকশো ফুট গভীর গিরিখাতে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী, বাড়ল বিপদের ঝুঁকি
প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাসটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। প্রথমে ৩৬ জন যাত্রী থাকলেও, মাঝপথে বিকল হয়ে পড়া অন্য একটি বাসের ১২ জন যাত্রীকেও এই বাসে তোলা হয়। ফলে মোট যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮।
তদন্তকারীদের ধারণা, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে বাসটির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দ্রুত গতির সঙ্গে মিলিত হয়ে সেটিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাতভর উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুল্যান্স। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী বাহিনীও অভিযানে যোগ দিয়েছে।
আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। মৃতদেহগুলি একে একে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসন।
নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পাহাড়ি রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করার প্রবণতা এখনও উদ্বেগের বিষয়। এই দুর্ঘটনা সেই সমস্যাকেই আবার সামনে এনে দিল।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানের লাহোরে একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে পড়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটল দেশে।