ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও কখনও কখনও জন্ম নেয় এমন কিছু গল্প, যা মানবিকতার প্রতি নতুন করে বিশ্বাস জাগায়। ভেনেজুয়ালার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হলেন ৪৩ বছরের হারনান আলবার্তা গিল ফ্লোরেস। চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের মতে, এমন উদ্ধার কার্যত অলৌকিক বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়ালায় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভয়াবহ কম্পনে বহু বহুতল ভবন ও একটি বড় শপিং মল ধসে পড়ে। সেই ধ্বংসস্তূপের নিচেই আটকে যান হারনান।
উদ্ধারকারী দলের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল একের পর এক আফটারশক, প্রবল বৃষ্টি এবং প্রায় ১৪০ টন কংক্রিট ও লোহার স্তূপ সরানোর কাজ। তবুও তাঁরা অভিযান বন্ধ করেননি। টানা শত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হারনানকে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধুলোয় ঢাকা শরীর, মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তাঁকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনছেন উদ্ধারকর্মীরা। পরে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সফল অভিযানের পর বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া রেড ক্রসের কোস্টারিকান সদস্য মিনিয়ার কোলাডো জানান, হারনানকে প্রথম খুঁজে পাওয়ার পর তিনি অনুরোধ করেছিলেন, “আমার স্ত্রীকে এখনই বলবেন না যে আমি বেঁচে আছি, যদি শেষ পর্যন্ত আমাকে বাঁচানো না যায়।” এই কথাই উদ্ধারকারী দলকে আরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।
কোলাডোর কথায়, “আমরা কোনও অবস্থাতেই তাঁকে সেখানে ফেলে রেখে আসতাম না।” তাঁর এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে উদ্ধারকর্মীদের অদম্য লড়াই ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তবে উল্লেখ্য, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে হালনাগাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানও বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত রয়েছে।