সৌহার্দ্যের বার্তা! শুভেন্দু-মমতা-সহ বাংলার বিশিষ্টদের জন্য বাংলাদেশের ‘আম উপহার’
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে নানা টানাপোড়েনের আবহ থাকলেও সৌহার্দ্যের বার্তা বজায় রাখল বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আম উপহার পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত প্রাপকদের হাতে এই আম পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০০ কেজি আম ভারতে আসে। পরে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সেই আম গ্রহণ করে বিভিন্ন বিশিষ্টজনের কাছে পৌঁছে দেয়।
এবারের উপহারে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন প্রজাতির আম—ক্ষীরপাত, ল্যাংড়া এবং হাড়িভাঙা। স্বাদ ও গুণমানের জন্য এই তিন ধরনের আম দেশ-বিদেশে সমান জনপ্রিয়।
উপহার প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্থমন্ত্রী ড.স্বপন দাশগুপ্ত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর কাছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আম উপহার পাঠানোর নজির থাকলেও, এবার বর্তমান সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বকে একসঙ্গে এই সৌজন্য উপহার পাঠানো একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা শিথিল হলেও এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও সৌজন্য বিনিময় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রতীক। একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পরিষেবাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে, যা সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইলিশ মাছ উপহার পাঠানোর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরেও সেই ঐতিহ্য বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।