বিধানসভার ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে বাংলার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিধায়কদের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, একসময় জনপ্রতিনিধিদের ন্যূনতম সম্মানও ছিল না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চিত্র বদলেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারপার্সন হরিবংশ, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী
ভাষণের শুরুতেই ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবিভক্ত বাংলা ভারত না পাকিস্তানের অংশ হবে, সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বিধানসভার ভোটাভুটির মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগ এবং সেই সময়ের বিধায়কদের ঐতিহাসিক ভূমিকার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।
আগামী ৬ জুলাই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর অবদান বাংলার ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।
‘আগে বিধায়কদের মর্যাদা ছিল না’
অতীতের সরকারগুলির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিধানসভাকে কার্যত গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের মতামতের মূল্য দেওয়া হতো না, এমনকি বিরোধী দলের বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠক বা সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হত না।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকেও বহুবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং বিধানসভা থেকেও একাধিকবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
'এখন শাসক-বিরোধী সবাই সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন'
বর্তমান সরকারের আমলে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গত দেড় মাসে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন নয়, সমন্বয়ের নীতিতেই সরকার এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাজেট বরাদ্দেও সব বিধানসভা কেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরলেন
ভাষণের শেষপর্বে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, উন্নত বন্দর, রেল যোগাযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দক্ষ মানবসম্পদের জোরে পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়ন ও ঐতিহ্য রক্ষার মন্ত্রকে সামনে রেখে আগামী দিনে বাংলা আবার দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।