যে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে জিরো টলারেন্স। আর অভিভাবকের সাথে হয়তো কাল আমার দেখাও হয়ে যাবে। উনি যা যা বলবেন, আমি করব। ওখানকার যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও যদি কিছু পরামর্শ থাকে তবে আমি কাল শুনে নেব।
বড় অ্যাকশন হবে। আমি কাল নিজে যাচ্ছি বারুইপুর সুপারের অফিসে। মিসিং ডায়েরির ব্যাপারে পুলিশের, লোকাল পুলিশেরও কী ভূমিকা আছে, তারও অ্যাসেসমেন্ট হবে। পুলিশ অফিসারের যদি কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা (ইরেসপন্সিবিলিটি) পাওয়া যায়, তবে তাকে দরজা দেখানোর কাজটিও পুলিশ মন্ত্রী করবেন। একদম নো কম্প্রোমাইজ।
বারুইপুরে নাবালিকা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউটে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একইসঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। আইজি-র নেতৃত্বে পুলিশ, এসটিএফ এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলেছেন এবং পরিবারের দাবি অনুযায়ী সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নির্যাতিতার পরিবার দ্রুত বিচার চেয়েছে এবং সরকার সেই দিকেই এগোচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে সরকার আদালতে সওয়াল করবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই খুনের ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা পলাতক অভিযুক্তদের গতিবিধি ও যোগাযোগের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন।
শুধু খুনের ঘটনাই নয়, রবিবার বারুইপুরে সংঘটিত অশান্তি, গণপিটুনি, রেল অবরোধ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাগুলিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে পৃথক একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি অভিযোগ করেন, নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক শক্তি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাজ্য প্রশাসনের এই অবস্থানের পর এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতে মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে। একইসঙ্গে, বারুইপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কী কী অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই মন্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেও রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।