ফেসবুক লাইভে এসে বর্তমান রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের এই লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দু'মাসের মধ্যেই প্রতিহিংসার রাজনীতি, বিরোধী কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসনের অপব্যবহার শুরু হয়েছে।
লাইভের শুরুতেই ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে ভোট গণনা কেন্দ্র দখল—সব ক্ষেত্রেই বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। যদিও নতুন সরকার গঠনের পর তাঁরা গণরায়কে সম্মান জানিয়ে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু সরকারের কার্যকলাপে হতাশা প্রকাশ করে তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে আদালতের নির্দেশ ছাড়াই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। চুরি, ডাকাতি কিংবা ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে বিরোধীদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বহু কর্মীর বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশনকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কমিশনকে ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, দলীয় প্রতীক মানুষের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নয়। প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই সেই প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন।
দলের ভেতরে থেকে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদেরও সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী। একইসঙ্গে মনে করিয়ে দেন, তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা, মিড-ডে মিল কর্মীদের অবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বগটুইয়ের একটি পরিবারের চাকরি বাতিলের অভিযোগও করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
জাতীয় স্তরেও বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, নিট পরীক্ষা, ভ্যাপাম কেলেঙ্কারি, রাম মন্দির-সহ একাধিক বিষয়ে মানুষ এখনও ন্যায়বিচার পায়নি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে মাত্র দু'মাসের মধ্যেই দুর্নীতি ও অরাজকতা বেড়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাম না করেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় তাঁর রাজনৈতিক উত্থানে তৃণমূল এবং নিজের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
শেষে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "অ্যাট্রোসিটিস করবেন না। মনে রাখবেন, এভরি অ্যাকশন হ্যাজ এ রিঅ্যাকশন।" পাশাপাশি তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালালে তার ফল একদিন ভোগ করতেই হবে। "ম্যান প্রোপোজেস, গড ডিসপোজেস"—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জানান, রাজনৈতিক লড়াই থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই সরে দাঁড়াবে না।