তৃতীয় মোদি সরকারের দু'বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অতীতের রীতি অনুযায়ী, সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি দলের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও এখনও পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক দল গঠন করেননি নীতীন নবীন। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং বিজেপির সংগঠন—দুই ক্ষেত্রেই বড়সড় রদবদলের জল্পনা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের দাবি, এবার মন্ত্রিসভা ও সংগঠনের রদবদল হবে সমন্বয় রেখে। কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীকে সাংগঠনিক দায়িত্বে আনা হতে পারে, আবার নতুন কয়েকজন সাংসদকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, অন্তত সাত থেকে আটজন নতুন মুখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুযোগ পেতে পারেন। একইসঙ্গে কয়েকজন প্রবীণ মন্ত্রীর বিদায়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এই সমস্ত জল্পনার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নাকি দীর্ঘ ২২ বছর পর দেশে ফের উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, ভারতে উপপ্রধানমন্ত্রী পদটি সংবিধান স্বীকৃত নয়। তবে অতীতে জোট রাজনীতি কিংবা সরকারের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদে একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। দেশের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সাতজন উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী।
আডবাণীর পর থেকে মনমোহন সিংয়ের ১০ বছরের সরকার এবং নরেন্দ্র মোদির টানা ১২ বছরের শাসনকালেও উপপ্রধানমন্ত্রী পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। ফলে এবার সেই প্রথা ফিরতে পারে কি না, তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
জল্পনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে দুই নেতার নাম। প্রথমজন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির সংগঠন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দাবি বিভিন্ন মহলের।
অন্যদিকে, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর নামও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছে। জেডিইউ-র তরফে প্রকাশ্যেই তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রী করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হলেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ফলে উপপ্রধানমন্ত্রী পদে সত্যিই কাউকে নিয়োগ করা হবে কি না, কিংবা হলে সেই দায়িত্ব কার কাঁধে যাবে—তা এখনও পুরোপুরি জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। তবে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রদবদলের আগে এই আলোচনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।