দিল্লিতে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ঋতব্রতদের লড়াই
জাতীয়

দিল্লিতে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ঋতব্রতদের লড়াই

ঘাসফুল প্রতীকের দাবিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের মুখোমুখি নব তৃণমূল শিবির। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক ও ভোটের জোরে নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ দাবি ঋতব্রতদের, পাল্টা লড়াইয়ে মমতা-অনুগামীরা।

শেয়ার
X WhatsApp

দিল্লিতে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ঋতব্রতদের লড়াই

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরজায়। দলের নির্বাচনী প্রতীক 'ঘাসফুল' এবং সংগঠনের বৈধতা নিয়ে বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে নিজেদের দাবি পেশ করবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূল শিবিরের প্রতিনিধিরা।

সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অংশ নেবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ নব তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি এবং প্রতীকের অধিকার নিয়ে কমিশনের সামনে আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরবেন তাঁরা।

নতুন কমিটি, কমিশনে জমা পড়েছে রেজোলিউশন

গত ২২ জুন নব তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে দলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহী শিবিরের। সেই সিদ্ধান্তের রেজোলিউশন-সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নব তৃণমূলের প্রথম সারির ১০ জন বিধায়ক দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।

প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই

নব তৃণমূলের দাবি, বর্তমানে তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রতীক ধরে রাখতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈধ ভোট এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন তাঁদের পক্ষেই রয়েছে। তাই ঘাসফুল প্রতীকের প্রকৃত অধিকারও তাঁদেরই হওয়া উচিত।

মহারাষ্ট্র মডেলের ছায়া?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি অনেকটাই মহারাষ্ট্রে শিবসেনার বিভাজনের ঘটনার মতো। সেখানে প্রথমে নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক স্থগিত (ফ্রিজ) করেছিল। পরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।

পাল্টা দাবি মমতা শিবিরের

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অনুগামী শিবিরের দাবি, ঘাসফুল প্রতীক মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এবং প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই।

তাঁদের বক্তব্য, প্রতীকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমর্থনও তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত তাঁদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রতীক-সংক্রান্ত আইনি লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচন কমিশনের শুনানির পর দলীয় প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে কি না, নাকি কোনও পক্ষের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে— এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
জাতীয়

রাম মন্দিরের দান কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন মায়াবতী, ‘দোষীদের কোনওভাবেই ছাড়া যাবে না’

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
জাতীয়

মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্যহানি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজ্যের উদাসীনতায় উঠছে

সোশ্যাল মিডিয়া
জাতীয়

করার নির্দেশ, কাটনি পুরনিগমের টিএল বৈঠকে কড়া বার্তা কমিশনারের

স্বামী বাড়িতে ছিলেন না, ৭ মাসের শিশুর সামনে গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন! একতরফা প্রেমে অভিযুক্ত স্বামীর ভাইপো গ্রেফতার
জাতীয়

স্বামী বাড়িতে ছিলেন না, ৭ মাসের শিশুর সামনে গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন! একতরফা প্রেমে অভিযুক্ত স্বামীর ভাইপো গ্রেফতার