ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
জাতীয়

মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্যহানি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজ্যের উদাসীনতায় উঠছে

মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে একাধিকবার রিপোর্ট চেয়েও সন্তোষজনক জবাব পায়নি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন।

শেয়ার
X WhatsApp

মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্যহানি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজ্যের উদাসীনতায় উঠছে প্রশ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা: ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে একাধিকবার জাতীয় স্তরে সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেও, সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার শিল্পী ও শ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)।

সূত্রের খবর, মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে একাধিকবার রিপোর্ট চেয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। স্বরাষ্ট্র দপ্তর সেই চিঠি স্বাস্থ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে পাঠিয়ে মতামত ও তথ্য চাইলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিকের দাবি, গত দু'বছরে একাধিক রিমাইন্ডার পাঠানোর পরও স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে কার্যত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সমস্ত রিমাইন্ডারের প্রতিলিপি-সহ প্রকৃত পরিস্থিতির কথা জানাতে হয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে।

প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, "কমিশন যে বিষয়টিকে মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে মনে হয় না।"

ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদলায়নি প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি?

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনিক মনোভাবের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ। শুধু মাদুর শিল্পীদের ক্ষেত্রেই নয়, হেফাজতে মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ঘটনায় রিপোর্ট পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিলম্ব ও উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

বিশ্বজোড়া খ্যাতি, অথচ অনিশ্চিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং বিশ্বের অন্যতম পরিচিত মাদুর উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার 'মাদুরকাঠি' জিআই (Geographical Indication) ট্যাগপ্রাপ্ত পণ্য। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর ব্লকের খোলাবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকা বিখ্যাত 'মসলন্দ' মাদুরের জন্য।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মাদুর শিল্পী ও শ্রমিক এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাঁদের কর্মপরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ।

কী কী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন মাদুর শিল্পীরা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে কাজ করার ফলে মাদুর শিল্পীদের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

টানা ১০-১২ ঘণ্টা ঝুঁকে কাজ করায় মেরুদণ্ড, কোমর, ঘাড় ও পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
অপর্যাপ্ত আলোয় সূক্ষ্ম কাজের কারণে চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস।
পাটের সুতো, ঘাস ও খড়ের ধুলো থেকে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগ।
রং, ভেজা কাঁচামাল ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে ত্বকের সংক্রমণ ও চর্মরোগ।
কম আয়, অপুষ্টি এবং নিয়মিত চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা।

শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুরক্ষা সরঞ্জাম, কর্মস্থলের উন্নত পরিবেশ কিংবা বিশেষ স্বাস্থ্য বিমার মতো সুবিধা এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধরা।

প্রশ্নের মুখে সরকারি উদ্যোগ

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে একাধিক প্রকল্প চালু থাকলেও, শিল্পীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘসূত্রিতা—দুই মিলিয়ে বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইস্যু হয়ে উঠছে।

এখন দেখার, কমিশনের পর্যবেক্ষণের পর রাজ্য সরকার মাদুর শিল্পীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।

Tags

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
জাতীয়

রাম মন্দিরের দান কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন মায়াবতী, ‘দোষীদের কোনওভাবেই ছাড়া যাবে না’

সোশ্যাল মিডিয়া
জাতীয়

করার নির্দেশ, কাটনি পুরনিগমের টিএল বৈঠকে কড়া বার্তা কমিশনারের

স্বামী বাড়িতে ছিলেন না, ৭ মাসের শিশুর সামনে গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন! একতরফা প্রেমে অভিযুক্ত স্বামীর ভাইপো গ্রেফতার
জাতীয়

স্বামী বাড়িতে ছিলেন না, ৭ মাসের শিশুর সামনে গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন! একতরফা প্রেমে অভিযুক্ত স্বামীর ভাইপো গ্রেফতার

রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের মহাসচিব পদ থেকে ইস্তফা চম্পত রাইয়ের, দান তছরুপ মামলায় বাড়ছে বিতর্ক
জাতীয়

রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের মহাসচিব পদ থেকে ইস্তফা চম্পত রাইয়ের, দান তছরুপ মামলায় বাড়ছে বিতর্ক