রাম মন্দিরের দান কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন মায়াবতী, ‘দোষীদের কোনওভাবেই ছাড়া যাবে না’
নিজস্ব সংবাদদাতা: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরে দানের অর্থ ও অলঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দান আত্মসাত বা দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মায়াবতীর কড়া বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ করা এক পোস্টে মায়াবতী লেখেন, অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ, গয়না ও অন্যান্য সম্পদে অনিয়ম, আত্মসাত ও দুর্নীতির খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংবেদনশীল ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতার পরামর্শ
মায়াবতীর মতে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে, সেজন্য দেশের অন্যান্য বড় ও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে যেভাবে দানের হিসাব-নিকাশ পরিচালিত হয়, সেই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অযোধ্যার রাম মন্দিরেও চালু করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির অপরাধীকরণ, অপরাধের রাজনৈতিকরণ এবং ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার—এই প্রবণতা গণতন্ত্র ও সংবিধানের পক্ষে শুভ নয়।
তদন্তে গ্রেফতার ৮ অভিযুক্ত
রাম মন্দিরে দান কেলেঙ্কারির তদন্তে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
তদন্তের আওতায় থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মন্দিরের দানবাক্সে জমা পড়া অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব-নিকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ট্রাস্টের শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তন
এই ঘটনার পর শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের মহাসচিব চম্পত রাই এবং ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই চম্পত রাইয়ের বক্তব্য নথিভুক্ত করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে ট্রাস্টের আরও পদাধিকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে মামলা
রাম মন্দিরের দান কেলেঙ্কারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আবেদনে তদন্তকে সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারিতে আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শেষ করার আবেদনও করা হয়েছে।
যদিও সুপ্রিম কোর্ট অবিলম্বে শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জরুরি শুনানির প্রয়োজনীয়তার যুক্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
SIT তদন্তে জোর
গত ২৩ জুন তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে।
যোগীর কড়া অবস্থান
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শুরু থেকেই এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কোনওভাবেই বিবেচনা করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। SIT নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে।"
কী অভিযোগ?
অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ এবং মূল্যবান গয়নার একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করা হয়েছিল এবং কিছু সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট বা মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলমান এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এই ঘটনায় কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর দেশের।