‘ভোর ৬টাতেও মোদিকে ফোন করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প’! বন্ধুত্বের সমীকরণে জোর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বড় আশ্বাস
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি, সেই বার্তাই ফের তুলে ধরলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর দাবি, এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এমনকি ভোরবেলাতেও মোদিকে ফোন করতে চেয়েছিলেন।
মিয়ামিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সার্জিও গোর জানান, একদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প তাঁকে মোদিকে ফোন করতে বলেছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয়, আমেরিকায় সন্ধ্যা হলেও ভারতে তখন ভোর ৬টা। উত্তরে ট্রাম্প নাকি বলেন, "তিনি নিশ্চয়ই উঠে পড়েছেন। উনি আমারই মতো।" যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সময় ফোন করা হয়নি।
গোরের মতে, এই ঘটনাই ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার পরিচয় বহন করে। তাঁর কথায়, "যখন আপনি কারও খুব ভালো বন্ধু হন, তখন সবকিছু নিয়ম মেনে হয় না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিজের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেই মনে করেন।"
জি-৭ সম্মেলনেও ছিল উষ্ণ রসায়ন
সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মুখোমুখি বৈঠক করেন মোদি ও ট্রাম্প। বৈঠকের আগে এক অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প হালকা মেজাজে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত শান্ত, স্থির ও দক্ষ। আমি কিন্তু তেমন নই।"
পরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক অসাধারণ। এটিকে আরও ঘনিষ্ঠ করার মতো খুব বেশি জায়গা নেই।"
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ
শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদী মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সার্জিও গোর জানান, ভারত-আমেরিকার বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal) খুব শিগগিরই সম্পন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও বার্তা
জি-৭ বৈঠকের সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ভারতের নেতৃত্বে যদি নরেন্দ্র মোদি থাকেন এবং দেশ কোনও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। যদিও দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই, তবুও ভারত-আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কূটনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জিও গোরের এই মন্তব্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ নয়, বরং ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশেরও ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।