পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। সেই সিদ্ধান্তের জেরে জল সংকটের আশঙ্কায় ক্রমশ চাপে পড়েছে ইসলামাবাদ। এরই মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধংদেহী ভাষায় হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান।
মঙ্গলবার পাকিস্তানে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আগে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারা এবং জলবায়ুমন্ত্রী মুসাদিক মালিক। সেখানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে তীব্র মন্তব্য করেন পাক জলবায়ুমন্ত্রী।
পাক সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুসাদিক মালিক বলেন, "প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন আচরণ করছেন যেন সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জলও যেতে দেবেন না।" এরপরই আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, "আমাদের প্রাপ্য জলে কেউ ভাগ বসাতে এলে তাদের হাত কেটে দেওয়া হবে।"
এই মন্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারা দাবি করেন, সিন্ধু জলচুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনও দেশ একতরফাভাবে স্থগিত করতে পারে না। তাঁর মতে, ভারতের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
কেন স্থগিত করা হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি?
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভারত। তারই অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতের বক্তব্য, ১৯৬০ সালে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, পাকিস্তান সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়নি। বরং গত কয়েক দশকে একাধিক যুদ্ধ, সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গি হামলার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বারবার আঘাত করেছে।
এদিকে জল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছে। মঙ্গলবারের আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিভিন্ন দেশের আইন বিশেষজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেখানে সিন্ধু জলচুক্তির আইনি ও আন্তর্জাতিক দিকগুলি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।