সোমবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত দুটি বিল এবং 'গুন্ডা দমন বিল' সহ মোট চারটি বিল পাসের সময় একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটাভুটি থেকে শুরু করে বিলের আলোচনায় বক্তৃতা ঘিরে তৃণমূল বিধায়কদের একাংশের অবস্থানকে কেন্দ্র করে শাসকপক্ষ বিরোধী শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেছে।
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত দুটি বিলের ভোটাভুটির সময় কক্ষে উপস্থিত থেকেও পাঁচজন তৃণমূল বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। অন্যদিকে, গুন্ডা দমন সংক্রান্ত দুটি বিলে প্রায় ২০ জন সদস্য ভোটাভুটিতে অংশ নেননি বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী শিবিরের অন্দরে মতভেদ ও ক্রস ভোটিংয়ের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
শুধু ভোটাভুটি নয়, গুন্ডা দমন বিল নিয়ে আলোচনার সময়ও তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের দেওয়া বক্তা তালিকায় প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম থাকলেও তিনি বক্তব্য রাখতে অস্বীকার করেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোস এবং পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ একাধিকবার অনুরোধ করলেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।
শোভনদেবের দাবি, তিনি আগেই জানিয়েছিলেন যে তাঁর পরিবর্তে কুণাল ঘোষ ওই আলোচনায় বক্তব্য রাখবেন। কিন্তু সেই নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় স্পিকার শোভনদেবের নামই ঘোষণা করেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিধানসভা কক্ষেই কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে বিরোধী দলনেতা তথা জোড়াফুল প্রতীকে নির্বাচিত এক সহকর্মী বিধায়ককে তাঁর অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে "বেইমান" বলে কটাক্ষ করেন। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিধায়কদের মধ্যে হাসাহাসি ও তামাশার পরিবেশ তৈরি হয়। কেউ কেউ আবার কুণাল ঘোষকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেও দেখা যায়।
বিরোধী শিবিরের এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, "আপনারা বিরোধী, কিন্তু শক্তপোক্ত নয়। কেউ বেরোচ্ছেন তো জামা ধরে টানছেন। আবার কেউ বলছেন ওরা ল্যাম্পপোস্ট। আসলে আপনারা শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করেছেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করেছেন, মানুষের রাজনীতি করেননি। সেই কারণেই আজ আপনাদের এই দশা।"
তবে একইসঙ্গে ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলিকে "ভদ্রলোক" বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ওবিসি সংক্রান্ত বিলের ভোটাভুটির ঠিক আগে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ বা 'ভালো' তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক। তবে কাজল শেখ, বাইরন বিশ্বাস, তৌফিকুর রহমান, পান্নালাল হালদার, বাহারুল ইসলাম এবং মোশারফ হোসেন কক্ষেই থেকে যান। তাঁদের দাবি, ভোটাভুটির জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বেরোতে পারেননি। যদিও পরে ভোটদানে তাঁরা অংশ নেননি বলে বিধানসভা সূত্রে জানা যায়।
যদিও কক্ষে উপস্থিত সদস্যের সংখ্যা ছয় হলেও স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী পাঁচজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। ফলে ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে সোমবারের বিধানসভা অধিবেশনে ভোটাভুটি, বক্তা তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং প্রকাশ্য অন্তর্দ্বন্দ্ব—এই তিন ঘটনাই তৃণমূলের অন্দরের মতপার্থক্যকে সামনে এনে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। অন্যদিকে, শাসকপক্ষের দাবি, এই ঘটনাগুলির জেরে বিধানসভায় কার্যত "হাস্যস্পদ" অবস্থায় পড়েছে বিরোধী শিবির।
রাজ্য
ভোটাভুটি থেকে বিলে বক্তব্য, বিধানসভায় ‘হাস্যস্পদ’ তৃণমূল! কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
ওবিসি বিলের ভোটে একাংশের বিরত থাকা, গুন্ডা দমন বিলের আলোচনায় শোভনদেবের বক্তব্য না রাখা, কুণাল-আখরুজ্জামান দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে বিধানসভায় অস্বস্তিতে তৃণমূল; সুযোগ হাতছাড়া করেননি মুখ্যমন্ত্রী।