বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক সংঘাত কমেনি, বরং তা আরও তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর ধারাবাহিকভাবে হামলা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে।
অভিষেকের অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যে আইনের শাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং প্রশাসন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিনা নোটিশে তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি পরিস্থিতিকে ‘পুলিশি রাষ্ট্র’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আদালতের নির্দেশিকাও উপেক্ষিত হচ্ছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী কর্মীদের উপর হামলা, শারীরিক নিগ্রহ এবং রাজনৈতিক ভয় দেখানোর ঘটনা বেড়েছে। দলবদল করতে অস্বীকার করা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা দায়ের, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন জেলে আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক হিংসাই নয়, বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ধর্ম ও বিশ্বাসের রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসা বিজেপির বিরুদ্ধেই রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, যদি বিজেপি সত্যিই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে থাকে, তবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের প্রয়োজন কেন? তাঁর দাবি, বিরোধী-শূন্য রাজ্য গড়ার উদ্দেশ্যেই প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যাঁরা আপস করেন না, তাঁদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। আর যাঁরা আপস করেন, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।" তাঁর মতে, গণতন্ত্রে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার প্রবণতা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী।
তবে উল্লেখযোগ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।