ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত ১,৭০০ ছাড়াল, ধ্বংসস্তূপে এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ,বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পরেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বহু মানুষ। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, এতদিন পর জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭১৯, আহত হয়েছেন ৫,০৩৪ জন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
৭২ ঘণ্টা পেরোতেই ক্ষীণ জীবিত উদ্ধারের আশা
উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত কমে এসেছে।
তবুও উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়নি। সেনা, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বহু পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন, প্রিয়জনদের কোনও খোঁজের আশায়।
উদ্ধারকাজের গতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিপর্যয়ের তুলনায় উদ্ধারকাজের গতি যথেষ্ট ধীর।
যদিও প্রশাসনের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বহু এলাকায় খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল ও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গতদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ চলছে। পাশাপাশি প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৫টি ত্রাণ শিবির চালু হয়েছে।
নতুন করে আফটারশকে বাড়ল আতঙ্ক
উদ্ধারকাজ চলাকালীন সোমবার আবারও কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে আফটারশকের মাত্রা ছিল ৪.৬। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও নতুন কম্পনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। অনেক মানুষ নিরাপত্তার কারণে এখনও খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাচ্ছেন।
কীভাবে ঘটেছিল এই বিপর্যয়?
ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবিয়ান উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে।
প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২, যার উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রায় ৪০ সেকেন্ড পরে একই অঞ্চলে আঘাত হানে দ্বিতীয় ভূমিকম্প, যার মাত্রা ছিল ৭.৫ এবং উৎসস্থল ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। বহু বহুতল ভবন, হাসপাতাল, সেতু ও আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনও বহু এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
স্বজনদের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি
সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বাড়লেও নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন, প্রিয়জনদের শেষবারের মতো খুঁজে পাওয়ার আশায়। উদ্ধারকারীদের কথায়, "যতক্ষণ না প্রত্যেক নিখোঁজ মানুষের খোঁজ মিলছে, ততক্ষণ অভিযান চলবে।"