ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
কলকাতা

‘শুধু চাপে রাখাই উদ্দেশ্য’, মুখ্যমন্ত্রীর ‘কালী-দোয়াত-কলম’ কটাক্ষের জবাবে সরব কুণাল ঘোষ

তারাতলা গুদাম বিপর্যয় ও ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা ফেসবুকে কড়া জবাব কুণাল ঘোষের। দাবি, বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতেই এই কৌশল।

শেয়ার
X WhatsApp

তারাতলা গুদাম বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ‘কালী-দোয়াত-কলম’ মন্তব্যের জেরে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার সরাসরি পাল্টা আক্রমণ শানালেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, পুরো বিষয়টির উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখা।

গত সপ্তাহে বিধানসভায় তারাতলা গুদাম বিপর্যয় নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি প্রশাসনিক নথির প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, সেখানে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মেয়রের ঘনিষ্ঠ কালীচরণ ওরফে ‘কালী’-র চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া কলকাতা পুরসভার বহু বিল্ডিং পরিকল্পনা অনুমোদিত হতো না। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি মন্তব্য করেন, “কালীকে ধরলেই, কান টানলে মাথা আসবে।”

এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এর পরেই কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, যদি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তি এতটাই শক্তিশালী হয়, তবে ফিরহাদ হাকিমকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন?

সোমবার বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রশ্নের জবাবে নতুন রূপক ব্যবহার করে বলেন, “একজন বলছেন কালী তো গেছে, দোয়াত আর কলম গেল না কেন? কলমের সঙ্গে যদি কালী যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। তবে প্রমাণ ছাড়া কিছু করা হবে না। এভিডেন্স থাকলে কাউকেই ছাড়া হবে না।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যে ‘কলম’ বলতে ফিরহাদ হাকিম এবং ‘দোয়াত’ বলতে তৃণমূল নেতৃত্বকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এর পরেই মঙ্গলবার ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি ছিল একটি রাজনৈতিক পরীক্ষামাত্র। তিনি লেখেন, “যদি সই সত্যিই অপরাধের হয়, তাহলে বিকেল পাঁচটার মধ্যে গ্রেপ্তার করুন।” কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় তাঁর দাবি, বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

কুণালের বক্তব্য, একটি সরকারি নথিতে স্বাক্ষর থাকলেই তা অপরাধের প্রমাণ নয়। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন, তাতে অন্যরকম বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁর বক্তব্য অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল বিধায়ক।

তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারাতলা গুদাম বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ‘কালী-দোয়াত-কলম’ বিতর্ক এখন বিধানসভার গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
কলকাতা

‘পালাবদলের পরেও তৃণমূলের উপর লাগাতার হামলা’, বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
কলকাতা

ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভায় পুলিশের ‘না’, মুখোমুখি তৃণমূলের দুই শিবির, বাড়ল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি আনার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, আগস্টেই বিধানসভায় বিল পেশের ঘোষণা
কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি আনার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, আগস্টেই বিধানসভায় বিল পেশের ঘোষণা

ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে
কলকাতা

ইসকনের সহ-সভাপতির পদ থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে