“পায়ে থাকবে গতি, মুখে থাকবে মিষ্টি ভাষা, বুকে থাকবে আগুন আর মাথা থাকবে ঠান্ডা।” একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধির কেমন হওয়া উচিত, সেই চার মূল মন্ত্র বেঁধে দিলেন লোকসভার স্পিকার
ওম বিড়লা
। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্যের বিধায়কদের জন্য আয়োজিত দু’দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ বা ‘প্রবোধন’ কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই বার্তা দেন।
দীর্ঘদিন পর বঙ্গ বিধানসভায় জনপ্রতিনিধিদের জন্য এমন গঠনমূলক শিবিরের আয়োজন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, বিধানসভা কেবল রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের জায়গা নয়, বরং সমাজ সংস্কার ও সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
ওম বিড়লা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনতা যে বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের নির্বাচিত করে পাঠিয়েছেন, সেই আস্থাকে আরও মজবুত করতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট করেন, গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হল সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলা। তাই সংসদীয় আলোচনায় যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
“সদনে দাঁড়িয়ে যখনই কথা বলবেন, তা যেন তথ্য ও যুক্তিনির্ভর হয়। সর্বদা মনে রাখতে হবে, আপনারা জনতার প্রতি দায়বদ্ধ।”
স্পিকারের মতে, মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা হতে হবে গঠনমূলক। একে অপরের ইতিবাচক দিকগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রয়োগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রান্তিক মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার
বিধানসভায় পাস হওয়া আইনগুলির সুফল যেন সমাজের একেবারে তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন ওম বিড়লা।
“আইন প্রণয়নের সময় একজন জনপ্রতিনিধির মূল ভাবনা হওয়া উচিত, সমাজের শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির জীবনে কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়।”
তিনি বলেন, আইন বা নীতি তৈরির সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিধায়কদের প্রশংসা
গত দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে বিধায়কদের একাগ্রতা ও উপস্থিতির প্রশংসা করেন স্পিকার। তিনি বলেন,
“এই দু’দিন ধরে যে মনোযোগ ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে আপনারা অংশ নিয়েছেন, তা আগামী দিনে আপনাদের আরও দক্ষ ও শ্রেষ্ঠ বিধায়ক হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।”
মাথা ঠান্ডা রেখে, যুক্তি ও তথ্যের ওপর ভর করে মানুষের কাজ করার এই বার্তা দিয়েই বঙ্গ বিধানসভায় আয়োজিত বিশেষ ‘প্রবোধন’ শিবিরের সমাপ্তি ঘোষণা করেন লোকসভার স্পিকার।