মুর্শিদাবাদের রেজিনগরকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে। বিধানসভায় ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১০ জুলাই রেজিনগরে জনসভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
গত ২৯ জুন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মুর্শিদাবাদে যাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই এবার রেজিনগরে সভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তব্য। শক্তিপুর ও কাশীপুরে আয়োজিত দুটি জনসভায় তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। তাঁর বক্তব্যকে বিরোধীরা উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী বলে অভিযোগ তুলেছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুন কবীরকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় বলেন, "সবক শেখানোর সময় হয়েছে।" তিনি আরও দাবি করেন, সংবিধান ও আইনের শাসনই শেষ কথা এবং আইন ভঙ্গের কোনও ঘটনাকে সরকার বরদাস্ত করবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে দুর্বল প্রশাসনের সুযোগ নিয়ে অনেকেই সীমা ছাড়িয়েছেন, কিন্তু বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপসহীন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি পৃথক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি সভার আয়োজকদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, রেজিনগরের জনসভায় হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, "লাখো মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যেদিন মাঠে নামব, সেদিন কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে মানব না। কতজনকে জেলে ভরবেন, সেটাও দেখে নেব।" এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক অবস্থান এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে ১০ জুলাইয়ের এই সভার দিকে নজর থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।