রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তালিকায় নাম ওঠার পর মঙ্গলবার লোকসভার সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেও বৈঠক করেন রচনা।
লোকসভার সচিবালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রচনা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্ক ও সম্মান ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের গতি কার্যত থমকে ছিল।
হুগলির সাংসদের কথায়, নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁকে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদদের সঙ্গে হাত মেলাতে হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ তাঁকে শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী হিসেবে ভোট দেননি, বরং তাঁদের জন্য কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মাত্র এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই রাজ্যে উন্নয়নের গতি ফিরে এসেছে। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে, তা গত কয়েক বছরে রাজ্যবাসী দেখেননি। উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, তা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে রচনা বলেন, “তৃণমূল মানেই দিদি। এটা আমি মানি। দিদির প্রতি আমার সম্মান চিরকাল থাকবে। কিন্তু দিদিকে সম্মান জানিয়েই বলছি, আমাদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে পারছিলাম না।”
উল্লেখ্য, গত রবিবার তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, তাঁরা ত্রিপুরাভিত্তিক রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেদিন স্পিকারের বাসভবনে উপস্থিত না থাকলেও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। সেই কারণেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি মঙ্গলবার লোকসভার সচিবালয়ে যান বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।