রাজ্যসভায় তৃণমূলের বড় ধাক্কা, প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফায় বাড়ল অস্বস্তি
রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে এবার দিল্লিতেও বড় ধাক্কার মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। চার দিনের মধ্যে পরপর তিন সাংসদের পদত্যাগে সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেল।
একসময় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৩। পরপর তিন সাংসদের ইস্তফার জেরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১০-এ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন।
চার দিনে তিন সাংসদের বিদায়
দলীয় সূত্রের খবর, গত সোমবার প্রথমে পদত্যাগ করেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। বুধবার ইস্তফা দেন অসমের নেত্রী সুস্মিতা দেব। আর বৃহস্পতিবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন প্রকাশ চিক বরাইক।
তবে সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের মতো প্রকাশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়েননি বলেই জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
লোকসভা ভোটে পরাজয়, টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ?
২০২৩ সালে তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হলেও তিনি জয় পাননি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই কি এই সিদ্ধান্ত? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি প্রকাশ।
সুখেন্দুশেখরের বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তি
এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দলটি এখন "চোর ও ধর্ষকদের পার্টিতে" পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ড প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় দল ছাড়লে তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা ছিল।
প্রবীণ নেতার এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তৃণমূলের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
দিল্লিতে দুর্বল হচ্ছে তৃণমূলের অবস্থান?
লোকসভা ও রাজ্যসভা— দুই কক্ষেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতার দূরত্ব তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।
একদিকে নির্বাচনী ধাক্কা, অন্যদিকে সাংসদদের ধারাবাহিক পদত্যাগ— সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এখন কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। আগামী দিনে এই ভাঙন আরও বাড়ে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।