গঙ্গাকে ‘মা’ মনে করে স্বচ্ছতার লড়াই, নিজের খরচে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার করছেন হরেন পাত্র
গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি ‘মা’। সেই বিশ্বাস থেকেই হাওড়ার সাঁকরাইলের পোদড়া এলাকার বাসিন্দা হরেন পাত্র দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাকে দূষণমুক্ত রাখার এক অনন্য উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের অর্থ ব্যয় করে তিনি গঙ্গার বুকে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন এবং অন্যান্য বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নেমেছেন।
কেন্দ্র সরকারের ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হরেন পাত্র গঙ্গা পরিচ্ছন্নতার এই কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁর কথায়, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য গঙ্গার জলে এসে মিশছে, যা শুধু নদীর পরিবেশকেই নয়, জলজ প্রাণীদের জীবনকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নদীর বুকে জমে থাকা আবর্জনা সরানোর জন্য তিনি ভেসেল ও জেসিবি মেশিনের সাহায্য নিচ্ছেন। এই পুরো কাজের আর্থিক ব্যয়ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। হরেন পাত্রের বিশ্বাস, গঙ্গা আমাদের মা, তাই তাঁকে পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কেউ যেন গঙ্গায় প্লাস্টিক, পলিথিন বা অন্য কোনও দূষণকারী বস্তু না ফেলেন। তাঁর মতে, আজ যদি গঙ্গাকে রক্ষা করা যায়, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হরেন পাত্র শুধু গঙ্গা পরিচ্ছন্নতার কাজেই সীমাবদ্ধ নন। পরিবেশ রক্ষার নানা উদ্যোগের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা থেকে শুরু করে গঙ্গা দূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
স্থানীয়দের মতে, সমাজের আরও বিত্তশালী ও প্রভাবশালী মানুষ যদি হরেন পাত্রের মতো এগিয়ে আসেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেন, তাহলে গঙ্গা দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এই ধরনের প্রচেষ্টা পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
মানুষের জন্য বার্তা
হরেন পাত্রের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, পরিবেশ রক্ষার জন্য শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতা ও উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গাকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে তাঁর নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।