মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর দফতর বণ্টন, নতুন সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখা স্পষ্ট
গত মাসের ৯ তারিখে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় পাঁচজন মন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেন। পরে আরও ৩৫ জন মন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হয়। এবার প্রকাশিত হল পূর্ণাঙ্গ দফতর বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি। এর ফলে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো এবং দায়িত্ব বণ্টনের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠল।
মুখ্যমন্ত্রীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ দফতর
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের কাছেই রেখেছেন স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য বিষয়ক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি, কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর। এছাড়াও অনির্দিষ্ট অন্যান্য দফতরের দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকবে।
দিলীপ ঘোষের হাতে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন
প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব। গ্রামীণ প্রশাসনের ক্ষেত্রে এই দফতরগুলির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রা পালের ঝুলিতে নগরোন্নয়ন
বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের দায়িত্ব। রাজ্যের শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও পুর প্রশাসনের কাজকর্ম তাঁর দফতরের অধীনে পরিচালিত হবে।
অর্জুন সিংয়ের হাতে শ্রম ও পরিবহণ
ব্যারাকপুরের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেতা অর্জুন সিংকে শ্রম এবং পরিবহণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে এই দফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত
নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের আর্থিক নীতি, বাজেট ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলি তাঁর অধীনেই পরিচালিত হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নতুন মুখ
বিদ্যালয় শিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মন। অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ডাঃ শরদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্ব থাকবে তাঁর উপর।
প্রযুক্তি ও শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব
তপস রায় পেয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ, সরকারি উদ্যোগ এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি দফতর। তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাঃ কল্যাণ চক্রবর্তীকে।
স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়
মালতী রাভা রায়কে দেওয়া হয়েছে নারী ও শিশু উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ দফতরের দায়িত্ব। রাজেশ মাহাতো পেয়েছেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও মৎস্য দফতর। অন্যদিকে যুব কল্যাণ, ক্রীড়া ও ভোক্তা সুরক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাঃ ইন্দ্রনীল খানকে।
প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনও সম্পন্ন
জনজাতি উন্নয়ন, উচ্চ শিক্ষা, পরিবহণ, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পর্যটন, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, ভূমি সংস্কার, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে একাধিক প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজের গতি বাড়াতেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
নজরে প্রশাসনিক ভারসাম্য
নতুন মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টনে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, শিল্পাঞ্চল এবং শহরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়েছে এই মন্ত্রিসভা বিন্যাসে।
রাজ্যের নতুন সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।