ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার আচমকাই কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের বিরুদ্ধে ইলেকশন পিটিশন সংক্রান্ত হলফনামা দাখিল করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি প্রথম নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। এবার ভবানীপুর কেন্দ্রের ফল নিয়েও একই পথে হাঁটলেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টে পৌঁছনোর পর মমতার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ও সাংসদ দোলা সেন। আদালতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে তাঁর আইনজীবী মহল জানায়, ভবানীপুরের ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, ভোট গণনার সময় একাধিক অনিয়ম হয়েছে এবং তারই তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গণনার ১২ রাউন্ডের পর তৃণমূলের এজেন্টকে মারধর করে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ভোট হলে আবারও মানুষ একই রায় দেবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের পরাজিত হবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে এই আইনি লড়াই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম মামলার মতো এই মামলাও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।