মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে চান নি, কিন্তু বাধ্য হয়েছেন সরে যেতে, দলও আজ আর আগের মতো এককাট্টা নয়। কিন্তু রাজপথ যেন এখনও তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মঞ্চ। হকার উচ্ছেদ ইস্যুকে সামনে রেখে ফের কলকাতার রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিয়ালদহ থেকে হাওড়া পর্যন্ত একাধিক এলাকায় হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে সামিল হয়ে ধর্মতলায় মানববন্ধন ও মিছিল করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী।
কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র হকারদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের সংগঠন ও জনভিত্তির শক্তি যাচাইয়েরও একটি প্রচেষ্টা।
ধর্মতলার মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা যায় কুণাল ঘোষ, দোলা সেন-সহ দলের কয়েকজন নেতাকে। তবে দীর্ঘদিনের বহু রাজনৈতিক সহযোদ্ধার অনুপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক বিভাজন এবং দলীয় প্রতীক ও সম্পদ নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে এই মিছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হকার উচ্ছেদ ইস্যু সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি করেছে, সেই আবেগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে আন্দোলনের রাজনীতি থেকেই তাঁর উত্থান। বিরোধী নেত্রী হিসেবে মহাকরণ অভিযান থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসংখ্য নজির রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে।
এদিন ধর্মতলার লেনিন সরণী হয়ে ওয়েলিংটন স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি। ফলে দলীয় সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন— রাজনীতির মূল শক্তি এখনও আন্দোলন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সাংগঠনিক সঙ্কটের মধ্যেও রাজপথে নেমে জনমত বোঝার চেষ্টা এবং দলকে পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এখন দেখার, হকার উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের পুরনো সংগঠনকে কতটা পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আগামী দিনের রাজনীতিতে এই কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলে।