বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রবিবার গভীর রাতে কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁকে কার্যত 'গৃহবন্দি' করে রাখা হয়েছে যাতে তিনি বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে না পারেন।
রবিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআরপিএফ, আইবি এবং সিআইডি মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রশাসনের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে বারুইপুরে যাওয়া থেকে আটকানো।
সোমবার সকালে কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা এখনও কড়া রয়েছে। যদিও রবিবার রাতের তুলনায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি কিছুটা কমেছে, তবুও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের প্রবেশপথে কড়া নজরদারি বজায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, সোমবারও অনেকটাই সেই চিত্রই দেখা যায়।
রবিবার রাতেই এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কালীঘাটে জড়ো হন তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও সতর্ক অবস্থান নেয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত মূল প্রবেশপথে নিরাপত্তা বলয় অটুট থাকলেও গলির মুখে মোতায়েন কিছুটা কমানো হয়েছে বলে দেখা যায়।
এদিকে, বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে রবিবার দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে খুনের অভিযোগে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে মৃত্যুর অভিযোগও সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করেছে। ওই এলাকায় পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে, পরে তাদের মধ্যে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর কালীঘাটের দিকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শিথিল হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে যান কি না এবং তাঁকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।