রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনীতিমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBCSSC) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা-কে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য রেসিডেন্সিয়াল কমিশনার হিসেবে কর্মরত। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এবার তাঁর কাঁধেই তুলে দেওয়া হল কমিশনের নেতৃত্ব।
রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাজেট বক্তৃতায় সরকার ঘোষণা করেছিল, বিভিন্ন নিয়োগ কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে ইউপিএসসি (UPSC)-র ধাঁচে পুনর্গঠন করা হবে। সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের দিকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
গত কয়েক বছরে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে। নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক এবং তৎকালীন শাসকদলের কয়েকজন নেতার নাম উঠে আসে। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য ও মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। অতীতের অনিয়ম দূর করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের মতে, একজন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আইএএস অফিসারের নেতৃত্বে কমিশনের কাজ পরিচালিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন প্রবীণ আইএএস আধিকারিককে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশন কত দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে এবং তা কতটা স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষা মহলের।