উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের শ্রমিকদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আধুনিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে মোট ৩১৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা’ (PM-CSPY)-র আওতায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
সমাজমাধ্যমে এই প্রকল্পের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গের পরিশ্রমী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত চা শ্রমিকদের জীবনে এই প্রকল্প একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সভাপতিত্বে রাজ্য স্তরের কমিটির বৈঠকে প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের যৌথ বৈঠকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক কর্তারা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়।
কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ?
এই মেগা প্রকল্পে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে—
চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনা: ১৭৭ কোটি টাকা
চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা: ৭২ কোটি টাকা
চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা: ৬৩ কোটি টাকা
৩২১টি আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণ
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ৩২১টি আধুনিক রেস্টিং শেড নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে—
পাহাড়ি এলাকায়: ৮৮টি
সমতল এলাকায়: ২৩৩টি
প্রতিটি বিশ্রামাগারে থাকবে—
অফ-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা
আধুনিক শৌচাগার
শ্রমিকদের বিশ্রামের উপযোগী পরিকাঠামো
সমতলে প্রতিটি শেড নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯.১১ লক্ষ টাকা, আর পাহাড়ি এলাকায় খরচ হবে প্রায় ২১.০৯ লক্ষ টাকা।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরই করবে বাস্তবায়ন
প্রশাসন জানিয়েছে, গোটা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD)। সরকারের আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও গতি পাবে।